আমাদের কথা

মানবজাতির ইহ ও পরলৌকিক সফলতার মূলমন্ত্রই প্রতিধ্বনিত হয়েছে ওহীর বাণী আল কুরআনে। নৈতিকতা বিবর্জিত আধুনিক শিক্ষা যেমনিভাবে মানবতার কল্যাণ সাধনে সক্ষম নয়, তেমনিভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা ও প্রয়োজনয়তাকে উপেক্ষা করে গড়ে উঠা ধর্মীয় শিক্ষা ও এর ধারকদেরকে পরনির্ভরশীলতায় পরিণত করে। তাই “হাকীমুল উম্মাহ ন্যাশনাল মাদরাসা” বাংলাদেশে এই প্রথম এমন এক বিষ্ময়কর শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিচ্ছে যেখানে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামি শিক্ষার সাথে ন্যাশনাল কারিকুলামের অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে ৪ বছরের শিশুকাল থেকে ১৫ বছরের ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি (দাখিল) সনদ লাভ করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ্। সে লক্ষ্যে, সু-পরিকল্পিতভাবে বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সময়োপযোগী শিক্ষা পদ্ধতির সাথে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনায়, সচেতনতা ও জবাবদিহিতার অনুভূতিকে জাগ্রতহ করার উন্নত সমন্বিত পাঠ্যক্রম প্রনয়নের মাধ্যমে শিক্ষাদান ও আল্লাহভীরু নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক কল্যাণ লাভের দীপ্ত প্রত্যয় নিয়ে “হাকীমুল উম্মাহ ন্যাশনাল মাদরাসা” ২০০৫ ইং সাল থেকে নতুন দিগন্তের যাত্রা শুরু করে। আল্লাহ তা’য়ালার সমীপে আমাদের এ নেক প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে তাঁর দয়া, রহমত, নুসরত কামনা করছি। আমীন!

ইসলামি শিক্ষা ছাড়া মুসলিম জাতি উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারবেনা। ইসলামি শিক্ষা বিবর্জিত সাধারণ শিক্ষা মানুষকে পাশবিকতার দিকে ধাবিত করে। কারণ `There is on utility of education if it does not improve our moral character’  আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার কোনটাই এককভাবে মূল্যবোধ, নৈতিকতাসম্পন্ন ও যোগ্য জাতি উপহার দিতে পারছে না। সাধারণ শিক্ষায় নৈতিকতাবোধের অভাব আর মাদরাসা শিক্ষায় রয়েছে বিজ্ঞান সম্মত ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অভাব। তাই ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়ে মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিশুদের জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন করে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আদর্শ জাতি উপহার দিতে ‘হাকীমুল উম্মাহ ন্যাশনাল মাদরাসার এই প্রচেষ্টা। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন!

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ইসলামি ও সমকালীন বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে আল্লাহভীরু, সৎ, যোগ্য, চরিত্রবান, আদর্শ দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হাকীমুল উম্মাহ ন্যাশনাল মাদরাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

মাদরাসার বিশেষত্ব

দেশের প্রখ্যাত আদেমেদ্বীন ও দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিশুবিশেষজ্ঞ ডাক্তার, মনরোগ বিশেষজ্ঞ ও দার্শনিকদের প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ পরামর্শ ও সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হয়।

আমাদের রয়েছে প্রত্যেক বিষয়ের জন্য পৃথক পৃথক শিক্ষক শিক্ষিকা। বালক শাখার জন্য পৃথক শিক্ষক শিক্ষিকা আর বালিকা শাখার জন্য পৃথক শিক্ষিকা। আমাদের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ নিজ নিজ বিষয়ের উপরে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত ও পাঠদানে অভিজ্ঞ। 

প্রত্যেক অধ্যায় পড়ানোর পরে ক্লাস টেস্ট ও এসাইমেন্টের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করে থাকি। প্রত্যেক সপ্তাহে  পাঠ মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ফলাফলের ভিত্তিতে পরের সপ্তাহের জন্য পাঠ পরিকল্পনা প্রনয়ন করে থাকি। 

আমাদরে রয়েছে প্লে গ্রুপ থেকে কেজি পর্যন্ত শিশু শ্রেণী।  ইবতিদায়ি প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাইমারি স্তর। দাখিল ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তর। 

ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বক্ষণিক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে Special Care ।

আমাদের রয়েছে  Auto Attendance প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তদারকী করা হয়।  SMS  এর মাধ্যমে অভিভাকদেরকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়।

আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষকগণ আরবি ও ইংরেজী ভাষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স ও সেমিনার আয়োজন করে থাকেন। যা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ইবতিদায়ি তৃতীয় শ্রেণী থেকে দাখিল দশম পর্যন্ত আল কুরআনের আম্মাপারা হিফজসহ তরজমা ও তাফসীর সম্পন্ন করার ব্যবস্থা।

প্রশিক্ষিত শিক্ষকমন্ডলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আরবি, ইংরেজি ও বাংলায় সুন্দর হাতের লিখার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। 

মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ সাহেবের উদ্ভাবিত মাদানী নেসাবের প্রথম থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা।